ধানের ভুষি, চালের গুড়া আর বাসন্তী রং দিয়ে তৈরি হচ্ছে মরিচের গুড়া!

বিস্তারিত দেখতে নিচের ছবিতে ক্লিক করুন
Loading...

মৌলভীবাজারের বিভিন্ন মশল্লার কারখানায় পঁচা মরিচের কিছু বীজের সাথে ধানের ভুষি, চালের গুড়া ও বাসন্তী রং মিশিয়ে তৈরা করা হচ্ছে খাঁটি মরিচের গুড়া। আর অল্প হলুদের সাথে চালের গুড়া ও হলুদ রং মিশিয়ে তৈরী হচ্ছে হলুদের গুড়া। এভাবে ধনিয়ার সাথে ধানের তোষ, কাঠের গুড়া ও এক ধরনের সেন্ট মিশিয়ে তৈরী করা হচ্ছে ধনিয়া ও জিরার গুড়া। আর এ গুড়াই বিক্রি করা হচ্ছে বাজারে ও গ্রামে গঞ্জের বিভিন্ন দোকানে।

প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ তাই কিনে নিয়ে তৈরী করছেন দৈনন্দিন আহারের বিভিন্ন খাবার। এ ভেজাল খাবার খেয়ে নিজের অজান্তেই মানুষ হয়ে পড়ছেন অসুস্থ। অনেকে মারাও যাচ্ছেন। প্রায়ই মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করা হয় ভেজাল ব্যবসায়ীদের। জরিমানা করার পর কিছু দিন অতিবাহিত হতে না হতেই তারা আবারও শুরু করে দেয় এ ব্যবসা।

 

সোমবার দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার নতুনবাজার সোনারবাংলা রোডে মো: আঙ্গুর মিয়ার মালিকানাধীন মাসুম মশল্লা মিলে দরজা বন্ধ করে ভেজাল মশল্লা তৈরী করা হচ্ছে এমন খবর পেয়ে পুলিশসহ শ্রীমঙ্গল সহকারী কমিশনার বিশ্বজিত পাল ঘটনাস্থলে পৌছে হাতেনাতে ধরেন। সাথে সাথে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিককে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিশ্বজিৎ পাল ।

 

তিনি জানান, ভ্রাম্যমান আদালতের খবর পেয়ে মালিক আঙ্গুর মিয়া পালিয়ে যায়। তবে আটক করেন প্রতিষ্ঠানটির ৩ শ্রমিককে। শ্রমিকরা উপস্থিত জনগণের সামনেই তারা যেভাবে মশল্লায় ভেজাল দ্রব্য মিশ্রিত করে তা স্বীকার করে।

 

এ সময় ভ্রাম্যমান আদালত প্রায় ৪শ কেজি ভেজাল মশল্লা জব্দ করে। পরে এ ভেজাল মশল্লাগুলো শহরের হবিগঞ্জ সড়কের ভুরবুড়িয়া ছড়ায় ফেলে দেয়া হয়।

 

অভিযান পরিচালনার সময় ভ্রাম্যমান আদালতে আটক মিলের শ্রমিক গোপাল দাশ বলেন, বিভিন্ন গ্রাম এলাকা থেকে ও খোলা বাজারের দোকানীরা নিজে হলুদ-মরিচ-ধনিয়া নিয়ে এসে এখানেই তারা তা মিশ্রিত করে নিয়ে যায়। আমরা শুধু মশল্লা ভাঙ্গার টাকা নিই।

 

এ সময় ভ্রাম্যমান আদালতে আসা শ্রীমঙ্গল থানার এস আই রাব্বি জানান, এখানে যে সকল মশল্লা দোকানী আসে তাদের প্রায় সবাই এরকম ভেজাল করে থাকে। যার ফলে তারা এই ভেজাল দ্রব্য এনে এখানে স্টক করে রাখে। ফলে মিলের মালিক ও মশল্লা বিক্রেতা দুইজনই অপরাধী।

 

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন সত্যকাম চক্রবর্তী জানান, যে কোন খাদ্যের সাথে অন্য যে কোন খাদ্য মিশ্রন দূষনীয়। এর ফলে দুই ধরনের মশল্লার সংমিশ্রনে সে মশল্লাার গুণাগুণের বিকৃতি ঘটে যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

এ সময় ভ্রাম্যমান আদালতের পরিচালক শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিশ্বজিত পাল আরো জানান, পর্যায়ক্রমে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সবকটি মশল্লার মিলেই তারা অভিযান করবেন এবং ভেজাল ধরা পড়লেই তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবেন।

বিস্তারিত দেখতে নিচের ছবিতে ক্লিক করুন
x